Anaconda Reboot Movie Review : স্মৃতির সাপের গল্প দেখে অ্যানাকোন্ডা নিজেই বিরক্ত
![]() |
| Anaconda Reboot Movie Review : স্মৃতির সাপের গল্প দেখে অ্যানাকোন্ডা নিজেই বিরক্ত |
Anaconda Reboot Movie Review : স্মৃতির সাপের গল্প দেখে অ্যানাকোন্ডা নিজেই বিরক্ত
- শিমুল চৌধুরী ধ্রুব
১৯৯৭ সালের জনপ্রিয় ক্রিচার ফিল্ম Anaconda–এর রিবুট ঘোষণার সময় অনেকেই ভেবেছিলেন, এটি হয়তো হবে সেই পুরোনো শিহরণ জাগানো অভিজ্ঞতার আধুনিক রূপ। কিন্তু বাস্তবে Anaconda Reboot সেই প্রত্যাশার ধারেকাছেও যেতে পারেনি। ছবিটি যেন নিজের অস্তিত্বই ঠিক করতে পারেনি—এটি কি আদৌ একটি ক্রিচার ফিল্ম, না কমেডি, না আবার ব্যক্তিগত সম্পর্কের নাটক?
ছবির গল্প ঘোরে দুই শৈশববন্ধুকে কেন্দ্র করে—
গ্রিফ (পল রাড), একজন ব্যর্থ অভিনেতা, আর
ডাগ (জ্যাক ব্ল্যাক), একজন বিয়ের ভিডিওগ্রাফার।
তারা দু’জনেই ছোটবেলা থেকে Anaconda–এর ভক্ত এবং বহু বছর পর সেই ছবির রিমেক বানানোর সুযোগ পেয়ে অ্যামাজনের জঙ্গলে পাড়ি জমায়। সঙ্গে যায় তাদের আরও দুই বন্ধু। পরিকল্পনা ছিল দ্রুত শুট শেষ করে ফেরা—কিন্তু জঙ্গল আর সেখানে লুকিয়ে থাকা অজানা বিপদ তাদের জন্য অন্য কিছু ঠিক করে রেখেছে।
শুনতে যতটা রোমাঞ্চকর লাগে, বাস্তবে ততটাই এলোমেলো এই যাত্রা। ছবিটি মেটা-স্টাইল বা “ছবির ভেতর ছবি” ফরম্যাটে বানানো হলেও সেটি খুব একটা কাজে আসেনি। বরং কোথাও কোথাও মনে হয়, নির্মাতারা নিজেরাই জানতেন না তারা ঠিক কী বানাতে চাইছেন। এক দৃশ্য থেকে আরেক দৃশ্যে যাওয়ার কোনও স্বাভাবিক ছন্দ নেই। সাব-প্লটের পর সাব-প্লট এসে মূল গল্পকে আরও দুর্বল করে দেয়।
পরিচালক টম গরমিকান সম্ভবত ছবিটিকে আলাদা কিছু বানাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই চেষ্টা করতে গিয়েই তিনি ছবির সবচেয়ে বড় শক্তি—অ্যানাকোন্ডা নামের ভয়ংকর প্রাণীটিকে—পেছনে ফেলে দেন। সোনা পাচারের গল্প, চরিত্রগুলোর ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন, এবং অতিরিক্ত আত্ম-সচেতন কৌতুক মিলিয়ে ছবিটি ক্রমেই নিজের পথ হারায়।
সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো, ছবির প্রাণীটি আর ভয়ংকর থাকে না। কখন সে কাউকে মেরে ফেলবে, আর কখন কাউকে বাঁচিয়ে দেবে—তা যেন দর্শকের পছন্দ অনুযায়ী ঠিক হয়। অথচ একটি ক্রিচার ফিল্মে প্রাণীর নিষ্ঠুর, অপ্রতিরোধ্য উপস্থিতিই হওয়া উচিত সবচেয়ে বড় আতঙ্ক।
এই বিশৃঙ্খলার মাঝেও জ্যাক ব্ল্যাক ও পল রাড কিছুটা প্রাণ এনে দেন তাঁদের স্ল্যাপস্টিক ও পরিস্থিতিনির্ভর হাস্যরস দিয়ে। তবে এই কৌতুকগুলো এতটাই বিচ্ছিন্ন যে মনে হয়, এগুলো অন্য যে কোনও ছবিতেও বসানো যেত।
শেষদিকে আইস কিউবের ক্যামিও দিয়ে একটি তথাকথিত “বিগ হলিউড এন্ডিং” দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সেটিও কাজ করেনি। ছবিটি শেষ হয়, কিন্তু মনে কোনও দাগ কাটতে পারে না।
সব মিলিয়ে Anaconda Reboot একটি বিভ্রান্ত ছবি—যে ছবিটি ঘরানা ভাঙতে গিয়ে নিজেই ভেঙে পড়েছে। সহজ-সরল, ভয়ংকর একটি ক্রিচার ফিল্ম বানানোর বদলে অতিরিক্ত আইডিয়া আর অপ্রয়োজনীয় গল্পের ভারে এটি নিজের মূল শক্তিকেই হারিয়ে ফেলেছে।
যে রিবুটের জন্য কেউ সত্যিকারের অপেক্ষায় ছিল না, সেটি বানানোর স্বপ্ন হয়তো শুরু থেকেই একটু সংযত হওয়া দরকার ছিল।
হাঙ্গামা/ধ্রুব
