Header Ads Widget

Responsive Advertisement

আমার বোনকে এক টাকায় বিক্রি করেছিলেন বাবা: কঙ্গনা

আমার বোনকে এক টাকায় বিক্রি করেছিলেন বাবা: কঙ্গনা
আমার বোনকে এক টাকায় বিক্রি করেছিলেন বাবা: কঙ্গনা

আমার বোনকে এক টাকায় বিক্রি করেছিলেন বাবা: কঙ্গনা


বলিউড রিপোর্টার: ভারতীয় ওয়েব সিরিজের জনপ্রিয় মুখ কঙ্গনা শর্মা। ‘গ্রেট গ্র্যান্ড মস্তি’, ‘মোনা হোম ডেলিভারি’, ‘ব্ল্যাকমেল’ ও ‘লেটস প্লে ব্লাইন্ড’-এ অভিনয় করে আলোচনায় আসেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী তার জীবনের নানান অন্ধকার বিষয় তুলে ধরেন। জানান, তার ও তার মা-বোনের উপর চরম নির্যাতনের কথা।

অই সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা জানান, তার বাবা মাত্র এক টাকার বিনিময়ে এক মিষ্টি বিক্রেতার কাছে বিক্রি করে দিয়েছিলেন অভিনেত্রীর বড় বোনকে। বোনের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা এখনো তাকে যন্ত্রণা দেয়। সময় বদলে গেছে, এখন তিনি অর্থ-সম্পদের মালিক। কিন্তু বাল্যকালের সেই ঘটনা এখনো তাকে কাঁদায়। সে সময় বোনকে বাঁচাতে না পারার জন্য অনুশোচনায় ভোগেন তিনি।

কঙ্গনা বলেন, ‘যে বাড়িতে আমার বড় বোনের বিয়ে হয়েছিল, সেটা মূলত ছিলো পতিতালয়। আমাদের এখানে বিয়ের প্রথম রাতে বর-কনের একসঙ্গে থাকার নিয়ম নেই। তাই বিয়ের পরের দিন কনে যখন শ্বশুরবাড়িতে যায়, সেটাই তাদের বাসর বা ফুলশয্যার রাত। সেদিন আমি আমার বোনের সঙ্গে তার শ্বশুরবাড়িতে যাই। আমার বয়স তখন ১৪ বছর। সে দিন রাতে বাথরুমে যাওয়ার সময় দেখি এক মেয়ের মুখে একটি কাপড় গুঁজে দেওয়া হয়েছে। ভয়ে প্রায় জমে গিয়েছিলাম। কাউকে কিছু বলিনি। আমার বোনও ভয়ে কাঁপছিল। ও আমায় অনুরোধ করল যে কোনও উপায়ে ওকে বাড়ি নিয়ে যেতে। কিন্তু আমি সে দিন কিছুই করতে পারিনি।’

তিনি বলেন, ‘বোনের শ্বশুর এসে বললেন, তিনি আমাদের বাড়িটা ঘুরে দেখাবেন। বোন তৎক্ষণাৎ বলে উঠল, ও বাড়িটা দেখতেই চায় না। আমি রাজি হলাম। বললাম, আমার মামার সঙ্গে বাড়িটা ঘুরে দেখব। তখন ওরা আমায় নীচে নিয়ে গেল। বিভিন্ন বেসমেন্ট থেকে লোকজন বেরিয়ে আসছিল। বোন আমার হাত ছাড়িয়ে আমায় উপরে নিয়ে চলে গেল। বলল, চলো বাড়ি যাই, পরে কথা হবে।’

কঙ্গনার বোন এমন অভিজ্ঞতার পর বাড়ি ফিরে আসেন এবং বাবাকে জানায় সে আর শ্বশুরবাড়ি যাবে না। কিন্তু বাবা কিছুতেই রাজি হননি। উল্টো বোনকে মারধর, বকাঝকা করতে থাকেন। বাবা এতো মারধর করেন, যে কারণে অভিনেত্রীর বোনের নাক দিয়ে প্রচুর রক্তপাত ​​হতে থাকে।

কঙ্গনা আরও বলেন, ‘আমার বোন লুকিয়ে বাড়িতে চিঠি পাঠাত, যাতে লেখা থাকত আমায় বাঁচাও। বাবা এর পরে এক দিন ওই বাড়িতে গিয়েওছিলেন। কিন্তু তাঁকে বের করে দেওয়া হয়। বাবা একদিন জোর করেই ভিতরে প্রবেশ করেছিলেন। বোন তাঁকে অনুরোধ করেন, যে ভাবেই হোক ওকে ওখান থেকে বের করে আনতে হবে। ও এতটাই মানসিক আঘাত পেয়েছিল যে এক বছর বিছানা থেকে উঠতে পারেনি। পরে জানতে পারি যে তারা ওকে ঘুমের ওষুধ দিত।’

কঙ্গনা জানান, ‘এর পরে বাবা তার বোনের ডিভোর্স করিয়ে দেন। কিন্তু পরে এক টাকার বিনিময়ে এক মিষ্টির দোকানের মালিকের সঙ্গে বোনের বিয়ে দেন। যে ব্যক্তিও একই রকমের অত্যাচার চালাতে থাকে তাঁর বোনের উপর। বোন বিয়েতে রাজি না হওয়ায়, বাবার ভয়ঙ্কর দুর্ব্যবহারের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। বোন বার বার বাবার কাছে অনুরোধ করতে থাকে, ওকে একটু সময় দেওয়ার জন্য। ওর শারীরিক স্পর্শে ভয় লাগত। এর পরে বছর দুয়েকের মধ্যেই বোনের টিবি, ক্যান্সার ধরা পড়ল। আর আমরা সে ব্যাপারে কিছুই জানতাম না।’ এখনও পর্যন্ত কঙ্গনার আফসোস হয় কেন তিনি তাঁর বোনকে বাঁচাতে পারলেন না।

হাঙ্গামা/প্রিয়াঙ্কা

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ